নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু: ভারী যান চলাচলে ফাটল, আতঙ্কিত বাসিন্দা
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৪ নম্বর স্টিমারঘাট সেতুটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি ফেরি চালু হওয়ার পর ভারী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও যানচালকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সেতুর বর্তমান অবস্থা ও ঝুঁকি
ট্রাকচালক আনোয়ার হোসেনের ভাষায়, 'ট্রাক নিয়ে উঠলেই সেতু কেঁপে ওঠে, তখন খুব ভয় লাগে। এরপরও উপায় না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই এটি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।' তিনি দুই মাস ধরে এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ৭ লাখ লোকের বসবাস, এবং তাদের অনেকেই এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
গত ৩১ জানুয়ারি হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে ফেরি চালু হওয়ার পর পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত চাপের প্রভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির ৪২টি পিলারের অর্ধেকের বেশি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। অনেক জায়গায় কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে, যা সেতুর স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সওজের নিষেধাজ্ঞা ও বাস্তবতা
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনা করে দুই পাশে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে, যাতে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ থেকে ২০ টন ওজনের ট্রাকসহ ভারী যানবাহনও নির্বিঘ্নে সেতুটি পার হচ্ছে।
বাসচালক জসিম উদ্দিন বলেন, 'এখন ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ট্রাকও চলাচল করছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।' তার এই উদ্বেগ অনেক বাসিন্দার মনের কথা প্রতিফলিত করে।
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
হাতিয়ার চরকিং এলাকার যাত্রী কবির হোসেনের মতে, 'ফেরি চালু হওয়ায় যাতায়াত সহজ হবে ভেবেছিলাম। এখন সেতুর কারণে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেতুর পার হওয়ার সময় ভয়ে থাকতে হচ্ছে।' তার মতো অনেক বাসিন্দাই এই সেতু দিয়ে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানজট নিয়ন্ত্রণে চারজন গ্রাম পুলিশ সেতুর দুই পাশে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের উপস্থিতি সেতুর গাঠনিক দুর্বলতা দূর করতে পারছে না।
সওজের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন সওজ নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, 'ভারী যানবাহনের চাপ বাড়ায় পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে।'
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে সংস্কার কাজ দেরিতে শুরু হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে হাতিয়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ভারী যানবাহনের চলাচল সীমিত করা এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।



