ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরার পথে দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি নেই
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি উদযাপন শেষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। তবে এক্ষেত্রে তেমন কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। নৌরুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লঞ্চ ও ফেরি থাকায় ঘাটে আসামাত্রই তাতে উঠতে পারছেন যাত্রীরা। মহাসড়কেও নেই যানজটের ভোগান্তি, যা ঈদ পরবর্তী যাতায়াতকে সহজ ও সুষ্ঠু করে তুলেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেল ঘাটে স্বাভাবিক অবস্থা
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঘাটে কোনো বাড়তি চাপ নেই। তবে দুপুর থেকে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌরুটে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত আছে। এতে করে ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন এবং যাত্রীরা ফেরিতে উঠতে পারছেন। পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। রয়েছে প্রশাসনের কড়া নজরদারি, যা যাতায়াত ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করছে।
বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপকের বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, "ঈদ শেষে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন। তবে কোনো প্রকার যানজট বা ভোগান্তি নেই। এ নৌরুটে ছোট-বড় মিলে ১৭টি ফেরি এবং ৩টি ফেরি ঘাট সচল রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছে।"
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
চুয়াডাঙ্গা হতে আসা ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, "পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে এখন ঢাকায় ফিরছি। বাড়িতে যাওয়ার সময়ও কোনো ভোগান্তি ছিল না। এখন কর্মস্থলে ফিরতেও কোনো ভোগান্তি নেই। ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবার চাপ কম বলে মনে হচ্ছে, যা যাতায়াতকে আরও সহজ করেছে।"
কুষ্টিয়া হতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "লোকাল পরিবহণযোগে দৌলতদিয়া ঘাটে আসার পর লঞ্চযোগে নদী পার হচ্ছি। কিছুটা ভিড় থাকলেও তেমন কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। প্রশাসনের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত যানবাহনের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা মসৃণভাবে চলছে।"
এভাবে, দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদ পরবর্তী যাতায়াত ব্যবস্থা ভোগান্তিমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



