ঢাকার যানজট নিরসনে সরকারের বড় পদক্ষেপ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হবে
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার একটি ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, 'ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন' শীর্ষক এই সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সভায় অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া, যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ এবং ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসব টার্মিনাল 'সিটি সার্ভিসের' জন্য ব্যবহার করা হবে।
রাস্তার দু’পাশ দখলমুক্ত করা, সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, রেলক্রসিংয়ে অটো সিগন্যাল চালু এবং সিটি বাসকে জিপিএসের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি এবং হাসপাতাল এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও সমন্বয়
আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বেশিরভাগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



