কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় রেল ওভারপাস সম্প্রসারণ, ব্যারিকেড অপসারণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে মহানগর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এখন একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখানে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময় রেল ওভারপাস নির্মাণ করা হলেও অদৃশ্য কারণে তা স্বল্প আকারে করা হয়। এর ফলে যানবাহন ইউ-টার্ন নিতে গিয়ে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে।
দাবিগুলোর মূল বিষয়
বক্তারা তাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন:
- পদুয়ার বাজার রেল ওভারপাসকে পল্লী বিদ্যুৎ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে।
- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার অংশে অবস্থিত ব্যারিকেড অপসারণ করতে হবে, যা মানবসৃষ্ট মরণফাঁদ হিসেবে কাজ করছে।
- নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরগামী বাসের জন্য একটি ওভারপাস বা ইউ-লুপ নির্মাণ করতে হবে।
- সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক একটি বাস ও রেল দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা এই সমস্যার জরুরি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ভূমিকা
বক্তারা জানান, এই আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বক্তারা দাবি করেন, তারা তার নির্দেশনায় এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অনতিবিলম্বে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের ওভারপাস সম্প্রসারণসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে যারা বক্তব্য রাখেন
এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ থানা বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ, মহানগর বিএনপি নেতা সোহেল মজুমদার, লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর ইউসুফ আলী পিন্টু, বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ খোকা। এছাড়াও বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এই মানববন্ধনটি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য একটি জোরালো দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা কুমিল্লার সড়ক অবকাঠামোর জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



