গাজীপুরে তুরাগ নদের পাড়ে সড়ক ধস: প্রতিমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সোমবার দুপুরে তিনি সড়কটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় প্রকল্পের পরিচালক এবং প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সড়ক ধসের পেছনের কারণ ও প্রতিক্রিয়া
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তার একটি অংশ ভেঙে কয়েক ফুট নিচে দেবে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগও সড়ক ধসে পড়ার একটি কারণ। তবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা এবং কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের টাকায় উন্নয়নকাজ হবে, কিন্তু সেই কাজ যদি মানহীন হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে তাদের বরখাস্তের চিঠি হস্তান্তর করা হয়।
নতুন তদন্ত কমিটি গঠন ও স্থানীয়দের দাবি
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি নির্মাণের সময়ই কাজের মান নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি পুননির্মাণসহ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্পের ব্যয় ও নির্মাণ বিবরণ
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল)।
- প্রথম প্যাকেজের অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায়, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি।
- দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়।
দুটি প্যাকেজের আওতায় মোট ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং, গার্ডওয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল। এই প্রকল্পের ব্যয় ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।



