পদ্মা সেতুতে ঈদযাত্রায় যানবাহন ও টোল আদায়ে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন দিনের যান চলাচল পরিসংখ্যানে পদ্মা সেতুতে রেকর্ড বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ দপ্তর থেকে শুক্রবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৭ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা।
গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
গত বছর ঈদুল ফিতরের একই সময়ে পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৮০২টি, আর টোল আদায় হয়েছিল প্রায় ১২ কোটি ৭৮ হাজার টাকা। এবারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যানবাহন পারাপারের হার প্রায় ৬৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে টোল আয়েও লক্ষণীয় উন্নতি ঘটেছে।
সেতুর অবদান ও ব্যবস্থাপনা
মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরকে সংযুক্তকারী দেশের দীর্ঘতম এই সেতুটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে অবস্থিত মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় চালু রয়েছে ইলেকট্রনিক টোল আদায় (ইটিসি) ব্যবস্থা।
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় হওয়ায় যানজটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো আরও দ্রুততর হয়েছে।
যমুনা সেতুর পরিসংখ্যান
অন্যদিকে, ঈদের সময় যমুনা সেতু দিয়েও যানবাহন চলাচলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যমুনা সেতু দিয়ে ঈদের সময় একদিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রার সময় সেতুগুলোতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে উন্নত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে চলাচল তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই সাফল্য পদ্মা সেতুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদানেরই প্রতিফলন বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



