ঝিনাইদহে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত, বিএনপি নেতাদের সমর্থকদের মধ্যে দলাদলি
ঝিনাইদহে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

ঝিনাইদহে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ: ১৫ জন আহত, পুলিশ মোতায়েন

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার জালিয়াপাড়া গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দলাদলির পেছনে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা

সংঘর্ষে আহত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন ময়েন উদ্দিন জানান, তাদের গ্রামে দুটি সামাজিক দল সক্রিয় রয়েছে। এক দলের নেতা মাতুব্বর বাদশা হোসেন এবং প্রতিপক্ষ দলের নেতা মাতুব্বর আকতার হোসেন। উভয়ই বিএনপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দলের মধ্যে শত্রুতা চলে আসছে।

সরকার থেকে মসজিদের ইমামকে ভাতা দেওয়ার ঘোষণার পর জালিয়াপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা ও আকতার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দলাদলি তীব্র আকার ধারণ করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

হামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি

বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন ঢাল, সরকি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়, যা এলাকায় ভীতির সৃষ্টি করে। শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক শামিম আহমেদ বলেন, "এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দলাদলি ও সংঘাতের শিকার হচ্ছেন। মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আহতদের অবস্থা ও চিকিত্সা

আহত ১৫ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকরা আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করেছেন। গুরুতর আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তাদের উন্নত চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।