ঈদে নির্বিঘ্ন যাত্রার নির্দেশ, সড়ক অবরোধমুক্ত রাখতে মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা
ঈদে নির্বিঘ্ন যাত্রার নির্দেশ, সড়ক অবরোধমুক্ত রাখার নির্দেশ

ঈদ-উল-ফিতরে নিরাপদ যাত্রার জন্য সড়ক অবরোধমুক্ত রাখার নির্দেশ

সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলাম আগামী ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক অবরোধমুক্ত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী মঙ্গলবার সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদের প্রস্তুতি বিষয়ক এক সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভাটি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ

সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের মানুষের জন্য ঈদ যাত্রা নিরাপদ, মসৃণ ও আরামদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ছুটির সময়ের যানজটে সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সতর্কতা: মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে চলমান প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী সড়ক বা তার আশেপাশে এমনভাবে ছড়িয়ে না থাকে যা যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় স্থানে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঈদ যাত্রায় যানবাহনের ওভারলোডিং প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার

সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সভায় বলেন, ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) ব্যবস্থা সেতুর উভয় প্রান্তে সক্রিয় রাখতে হবে যাতে ইটিসি কার্ডধারী যানবাহন দ্রুত ও বাধাহীনভাবে পার হতে পারে। তিনি টোল প্লাজা ও বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রেখে প্রধান প্রধান সংযোগস্থলে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

দ্রুত টোল প্রদান সহজ করতে কর্তৃপক্ষকে টোল বুথে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছোট অঙ্কের নগদ অর্থের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুপযুক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পণ্য পরিবহন নির্দেশনা

সভায় আরও বলা হয়, অযোগ্য ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন যাতে সেতু বা মহাসড়ক ব্যবহার করে যানজট সৃষ্টি না করতে পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। যানবাহনের মালিক, চালক ও যাত্রীদের ঈদের ভিড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়।

  • সিমেন্ট, রড, পাথর ও বালি বহনকারী ট্রাকগুলো ঈদের সাত দিন আগে ও পরে সীমিতভাবে চলাচল করবে।
  • ঈদ-উল-ফিতরের তিন দিন আগে সম্পূর্ণরূপে সড়ক বন্ধ রাখতে হবে।
  • খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও নষ্টযোগ্য পণ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও এর চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। ঈদের এই প্রস্তুতি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।