বরিশালে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ
বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকালে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন যাবত নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডে টং দোকান বসিয়ে চা বিক্রি করতেন আলমগীর হোসেন। বিকালে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক হাওলাদার ও নাহিদ সরোয়ার ওই দোকান ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আলমগীর ও তার স্ত্রী জানান, সড়কের পাশে ছোট একটি দোকান বসিয়ে চা বিক্রি করেন তারা। শুক্রবার বিকালে ছাত্রদল পরিচয়ে ২০-২৫টি মোটরসাইকেলে এসে ওই দোকান ভেঙে ফেলেন আশিক ও নাহিদ সরোয়ার। ভুক্তভোগী আরেকজন জানান, বহু বছর যাবত একই স্থানে চা বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। তার দোকান ভেঙে দিলে আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্রদল নেতার ভয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগী পরিবার, যা তাদের নিরাপত্তাহীনতা ও আইনের শাসনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত আশিক হাওলাদার বলেন, এটি সরকারি জায়গা। মাত্র কিছুদিন আগে সিটি করপোরেশন এখান থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেছে। নির্বাচনের পর এরা আবার খাল দখল করে অবৈধ দোকান বসানো শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, আমি এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দিয়েছি। এটি একটি সড়কের প্রবেশমুখ। এখানে অবৈধ দোকান বসলে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে বিঘ্ন হবে। তার মতে, এই পদক্ষেপ জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে, যদিও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তা মানতে নারাজ।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বিমানবন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ভুক্তভোগীদের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা বরিশালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
