দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা: অবকাঠামো ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সরকারের প্রত্যাশা

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা ও দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি পেতে সংগ্রাম করছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পিছিয়ে রেখেছে। উন্নয়নের জন্য বারবার রাজপথে নামতে হয়েছে এখানকার বাসিন্দাদের। যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা মূলত তাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। বরিশালে নামমাত্র বিসিক শিল্পনগরী থাকলেও নানা সংকটে উদ্যোক্তা তৈরি হয়নি, এবং বিদ্যমান কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে।

বরিশালের উন্নয়নে জরুরি প্রকল্পসমূহ

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বরিশালের উন্নয়নে সক্রিয় নাছিম উল আলমের মতে, নতুন সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে হবে:

  • ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল-ভাঙ্গা অংশের ছয় লেন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন।
  • ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশাল হয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা।
  • বরিশালে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্তের ভিত্তিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
  • বরিশাল-ঢাকা এবং যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম আকাশপথে নিয়মিত বিমান চলাচল পুনর্বহাল।
  • বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালু করা।
  • কুয়াকাটাকে 'একান্ত পর্যটন এলাকা' হিসেবে গড়ে তোলা এবং বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন।
  • বরিশালে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন কমিটির ২৭ দফা দাবি

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নরুল ইসলাম খান রাজন ২৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরিশালের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা

বরিশাল সদর আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার উন্নয়নে দলের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তার ঘোষণা অনুযায়ী, ভোলা-বরিশাল সংযোগ, বরিশাল ডুয়েল গেজ রেললাইন স্থাপন, আধুনিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ইপিজেড স্থাপন, বরিশাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, বরিশাল নগরীর খাল উদ্ধার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ২৫০-এ উন্নীতকরণ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু করা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ

বরিশালবাসীর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। এই অঞ্চল খাদ্যশস্যের মূল ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত, এবং এর ক্ষতির প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়বে। তাই দক্ষিণাঞ্চল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা, যাতে তাদের চাহিদা ও সমস্যাগুলো সরাসরি সমাধান করা যায়।