গুলিস্তানে ১০০ হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিল ডিএসসিসি
গুলিস্তানে ১০০ হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিল ডিএসসিসি

ঢাকা মহানগরীর ফুটপাথের পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গুলিস্তান এলাকায় ১০০ জন হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন রিংক রোডে পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

প্রশাসকের বক্তব্য

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, পর্যায়ক্রমে শহরের সব হকারকে পুনর্বাসন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) “ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬” এর আওতায় হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রস্তাবিত নীতিমালার অধীনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

চিহ্নিত এলাকাসমূহ

ডিএসসিসি এলাকায় প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হলো- গুলিস্তানে রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ- সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১০টা), মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে ও আশেপাশের এলাকায় সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১০টা)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজউক ভবনের পেছনে: দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, বাইতুল মোকাররম পূর্বগেইট সংলগ্ন লিংক রোড, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এক পাশে, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে মাঠ সংলগ্ন রাস্তা, দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল পরিচয়পত্রের সুবিধা

ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রথমদিন ১০০ হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সবকে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “হকার বসার পরও ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫-৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা শহরে হকার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছি। এর ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ ও পথচারী বান্ধব ফুটপাত নিশ্চিতকরণ ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে। অন্যদিকে হকার নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হবে।”

এ উদ্যোগকে মানবিক ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে এই ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। পুনর্বাসনের পর সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের বিধিবিধান মেনে এবং বরাদ্দ জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি হকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

নীতিমালার শর্ত

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, খেলার মাঠ, স্কুল মাঠ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। এছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী বা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ হকারদের যেকোনো সময় উচ্ছেদের পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া হকারদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর তদারকি করবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্মসচিব পরিমল সরকার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। বক্তারা এ উদ্যোগকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' বিনির্মাণের পথে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।