স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে, তার মধ্যে একটি হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে একমত।'
প্রধান পরিবর্তনগুলো কী কী?
সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধান বাতিল করা হবে।
- ইভিএম ব্যবহারের নিয়মও থাকছে না।
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হচ্ছে।
- উপজেলা নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
- প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না।
- ফেরারি আসামি এবং আইসিটি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্তরা প্রার্থী হতে পারবেন না।
বিধিমালা চূড়ান্তকরণের সময়সূচি
ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হবে। জুন মাসের মধ্যে পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে এবং ঈদের আগে আরেকটি বৈঠক করে খসড়া বিধিমালা কমিশনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়
চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশন আশা করছে আগামী অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের চারটি শর্ত
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন নির্বাচন কমিশনার। প্রথমত, সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ। তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। চতুর্থত, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সততা ও নেতৃত্ব।
সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়
সহিংসতাহীন নির্বাচনের জন্য সরকারের শতভাগ সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'সহিংসতা আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। কেউ সংঘর্ষ সৃষ্টি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি হবে। তবে শুধু আইন দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, রাজনৈতিক দলগুলোরও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।'
নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার ক্ষমতাও আইন ও বিধিমালায় রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'আমরা আশা করি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে।'



