ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বোকাইল গ্রামে রেলওয়ের জায়গায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের তৈরি একটি ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও থানা ছাত্রদলের সভাপতির বিরুদ্ধে। সোমবার (১৮ মে) ঘরটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘর ভাঙার ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেরদা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন এবং থানা ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম মাহমুদ রুবেল মিলে ঘরটি ভেঙে নিয়ে যান। ওয়ার্ল্ড ভিশন রেলওয়ের ওই জায়গায় স্থানীয় নারীদের উন্নয়ন, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং খাতা-কলমসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প পরিচালনা করেছিল।
প্রকল্পের ইতিহাস
প্রকল্পটি কয়েক বছর চলার পর ২০০৬ সালের দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও বিভিন্ন সময় এটি নানা কাজে ব্যবহৃত হতো। একপর্যায়ে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের অভিযোগও ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঘরটি ভেঙে ফেলার জন্য একটি আবেদন করা হয়। তবে ইউএনও কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও সোমবার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ঘরটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন বলেন, ইউএনও অফিসের লোক নাইম মিয়া ঘরটি ভেঙে নিতে বলায় আমরা এটি ভেঙে সরিয়ে নিয়েছি। পাশাপাশি এলাকার কয়েকজন মুরুব্বির সম্মতি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নাজিম মাহমুদ রুবেল বলেন, ঘরটি মাদকের আখড়া হয়ে গিয়েছিল। তিনি এটি ৩০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে কার কাছ থেকে কিনেছেন বা কার কাছে টাকা দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা কাউকে দেইনি, টাকা আমার কাছেই ছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তার ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না।
বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন বলেন, কোনো ব্যক্তি সরকারি বা এনজিওর সম্পদ ভেঙে নিলে দল এর দায় নেবে না। অপরাধ করলে ব্যক্তিকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে।
ইউএনওর বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি আবেদন পাওয়া গিয়েছিল এবং তদন্তের জন্য প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ভিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘর ভাঙা বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কেউ ঘরটি ভেঙে নিয়ে গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



