রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আলোচনায় হাসনাত কাইয়ূমের তীব্র সমালোচনা
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আজ শুক্রবার সকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আয়োজনে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
গণভোটের আদেশ অগ্রাহ্য করাকে প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও নতুন সংসদ সেই আদেশ অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে গণভোটকে বেআইনি করার যেকোনো অপচেষ্টা সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। কাইয়ূমের মতে, দেশে অবাধ নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে সংবিধান সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
১৯৭১ সালের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ
হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা গত ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি। বরং ১৯৭২ সালের সংবিধানের চতুর ক্ষমতাকাঠামোর মাধ্যমে দেশে একটি নিকৃষ্ট স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ ও রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই সনদ একটি মাইলফলক।
সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যতের হুমকি
সরকারকে সতর্ক করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, যাঁদের ভোটে আপনারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছেন, সেই একই ভোটাররা গণভোটে আপনাদের সংস্কারের আদেশ দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই আদেশ অগ্রাহ্য করলে জনপরিসরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতায় ধস নামবে। কাইয়ূম দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান শেষ হয় নাই এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যাত্রা শুরু না হওয়া পর্যন্ত অভ্যুত্থান শেষ হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এখানে আরও সরকার পতন হতে পারে এবং সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের গড়িমসি চলতে থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সরকার পতনের লড়াই শুরু করা হবে।
সভায় অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
এই আলোচনা সভায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। দলটির যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সভায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন:
- ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য বাকী বিল্লাহ
- বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য
- অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সদস্যসচিব মাহবুব আলম চৌধুরী
- জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) সদস্যসচিব আব্দুল আলীম খান
- মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
- গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী
সভাটি ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল, যা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৌজন্যে পরিচালিত হয়েছে।



