কুড়িগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখা থেকে উধাও তিন তরুণ, ১৭ দিন পর রহস্য
শূন্যরেখা থেকে উধাও তিন তরুণ, ১৭ দিন পর রহস্য

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তে টানা ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর তিন তরুণ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছেন। বুধবার ভোর থেকে সীমান্ত এলাকায় তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত

জানা যায়, ১৪ জুন ভোরে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে কালাপানি-জিঞ্জিরাম নদীর সেতুর নিচ দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিন তরুণকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করে। তাদের দাবি ওই তরুণরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শূন্যরেখায় অবস্থান

পরে বিএসএফ সদস্যরা তিনজনকে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কালাপানি-জিঞ্জিরাম নদীর তীরে রেখে চলে যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিখোঁজের খবর

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, আজ সকাল থেকে সীমান্তে অবস্থানরত ওই তিন তরুণকে আর দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) ইজলামারী ক্যাম্প সদস্যদের জানানো হলে তারাও ওই তিন তরুণের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

নিখোঁজ তরুণদের পরিচয়

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, নিখোঁজ তিন তরুণ হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দী গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ মিয়া (২১) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম আহমেদ (২২)। তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর আটক হন। পরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা দীর্ঘ ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজিবির বক্তব্য

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হাসানুর রহমান বলেন, 'শূন্যরেখায় অবস্থানরত তিন তরুণকে বুধবার ভোর থেকে আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিজিবি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।'

একই এলাকায় আরেক ঘটনা

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে ১৪ জুন ছয়জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে স্থানীয়দের বাধা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পরিচয় শনাক্তের পর মানবিক দিক বিবেচনায় বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার এবং দুই সন্তানকে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা পরিবারের কাছে ফিরে যান।