মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে চন্দন ভগত (৫৮) নামের এক ব্যবসায়ী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত চন্দন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা বন্দর (মুড়িহাট) এলাকার মৃত বৈদ্যনাথ (দেবনাথ) ভগতের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নিজ বাড়ির দ্বিতীয়তলার সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে নাইলনের সুতলি দিয়ে ফাঁস দেন চন্দন ভগত। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের স্ত্রী নুপুর রবি দাস অভিযোগ করে জানান, তার স্বামী বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে আসেন; কিন্তু টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি লোকলজ্জায় ও ভয়ে সারাদিন বাড়ির বাইরে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে রাতে পরিবারের সবার অজান্তে তিনি বাড়ির সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চন্দন ভগত ঋণের কিস্তি নিয়ে প্রায়ই চরম উদ্বেগের মধ্যে থাকতেন। তবে ঋণের চাপ ছাড়া তার আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, "পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের কিস্তির চাপের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। তবে এটিই আত্মহত্যার একমাত্র কারণ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তসাপেক্ষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।"



