ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষের কারণ ও ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইলের সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন পাঁচ লাখ টাকার চটাপটি বিক্রি করেন একই উপজেলার ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পাওনা টাকা চেয়েও পাচ্ছিলেন না মোশাররফ। রবিবার বিকালে সরাইলের শহীদ মিনার এলাকায় মোশাররফের সঙ্গে আশিক ও আলালের দেখা হয়। এ সময় আশিক ও আলালের কাছে পাওনা টাকা চান মোশাররফ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই খবর তাদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ ও হতাহত
রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে আশিক ও আলালের পক্ষের হাদিস মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। নিহত হাদিস মিয়া সরাইল ধর্মতীর্থ চাকসা এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



