ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ তৃতীয় দিনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে আবারও সংঘর্ষ চলছে। এর আগে রবিবার রাতে ও সোমবার দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের কারণ ও হতাহত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। রবিবার সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ এলাকার হাদিম মিয়া (৫৫) বল্লমের আঘাতে নিহত হন। নিহত হাদিম মিয়া ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রামে তার লাশ দাফন করা হয়।
লুটপাট ও ভাঙচুর
হাদিম মিয়ার লাশ দাফনের পর ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত তরুণ-যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে কালীকচ্ছ বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। লুটপাট থেকে বাদ পড়েনি অন্য এলাকার বাসিন্দাদের দোকানপাটও। বাজারের পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লোকজন অসহায় হয়ে পড়েন। পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনলেও গভীর রাতে একাধিক দোকানে লুটপাট করা হয়।
তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আশপাশের চার পাঁচটি গ্রামের লোকজন যোগ দিয়ে বাজারে লুটপাটের প্রস্তুতি নেন। এ সময় সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী ও তাদের লোকজন ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজন ও তাদের অনুসারীদের ধাওয়া করেন। মুহূর্তের মধ্যে কালীকচ্ছ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও সংঘর্ষ চলছিল।
যান চলাচল বন্ধ ও পুলিশের ভূমিকা
সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা-হবিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। কালীকচ্ছ বাজারে অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বিমার কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবাইদুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।



