স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ
দুই দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক। আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিকে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। এমতাবস্থায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে, গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণের পর জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২১ জুন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আইনজীবীর বক্তব্য
আসামিদের পক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।
দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। আলভী ও ইকরা বিয়ে করেন ২০১০ সালে। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এ মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।



