সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ও জনপ্রিয় চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশল প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা জানান, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে যা জানালেন ডা. সুষমা
ডা. সুষমা রেজা তার পোস্টে লেখেন, “অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এই সংবাদটি অনেকের জন্য কষ্ট, বিস্ময় বা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে, কিন্তু তারা চেয়েছেন খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, তাদের কাছ থেকেই শুনুন।
প্রায় দুই দশকের পথচলার সমাপ্তি
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “খুব অল্প বয়সে আমাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি।” তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন যে সম্পর্ক সেই জায়গায় নেই যেখান থেকে শুরু হয়েছিল।
সম্মানজনক সিদ্ধান্ত ও শুভকামনা
ডা. সুষমা লেখেন, “দীর্ঘমেয়াদী যেকোন সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও।” তিনি স্পষ্ট করেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা কখনোই নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেননি, বরং সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। এই কঠিন সময়ে তিনি সবার কাছে অনুরোধ করেন যেন ব্যক্তিগত ঘটনাটি অনুমান, গুজব বা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় না করা হয়।
পরিবারের প্রতি অনুরোধ
বিশেষ করে পরিবারের ঘনিষ্ঠ মানুষদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের, বাবা-মা কিংবা ভাইবোনদের সামনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন না। এই পরিবর্তন তাঁদের প্রত্যেককে কত গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” তিনি সবাইকে সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা ও সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।
শেষ কথা
পোস্টের শেষে ডা. সুষমা রেজা লেখেন, “প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছি আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং এক ধরনের শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।” তিনি নিজেদের জীবন থেকে শেখা একটি ছোট্ট কথা রেখে যান: “নিজের পরিবারকে সময় দিন। প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। জীবন খুবই ভঙ্গুর।”



