চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুর দুই পাশে আটকা পড়ে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সেতু ধসের ঘটনা ও তাৎক্ষণিক প্রভাব
সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোত শুরু হয়। সেই স্রোতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া খালের ওপর নির্মিত ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি শনিবার ভোররাতে ভেঙে পড়ে। সেতু ধসের পাশাপাশি একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধও ভেঙে যায়। রাতের কোনো এক সময়ে পানির প্রচণ্ড তোড়ে সেতুটির একাংশ ধসে পড়ে।
সেতু ভেঙে যাওয়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষরা চরম বিপাকে পড়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাতায়াত স্বাভাবিক হয়নি। দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বান্দরবান থেকে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে ডুবে থাকায় তাদের টিম এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, পানি কমলে দ্রুত বেইলি সেতু সংযোগ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়া এবং পার্বত্য জেলা রাঙামাটিসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ভোগান্তি ও সমাধানের উদ্যোগ
সেতু ধসের কারণে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা ও কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও পানি না কমা পর্যন্ত বেইলি সেতু স্থাপন সম্ভব হবে না। এদিকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



