বিএসএফের হাতে আটক ও নির্যাতনের পর লাশ ফিরল পঞ্চগড়ের আজিজুর রহমানের
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উপস্থিতিতে আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে। শুক্রবার বিকেলে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ঘাস কাটতে গিয়ে আটক ও নির্যাতনের শিকার
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৪ মে, যখন ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান (৫০) সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটছিলেন। এই সময় ভারতের ১৮৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, আটকের পর আজিজুর রহমানকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, যা তাঁর গুরুতর আহত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারাগার ও হাসপাতালে চিকিৎসা এবং মৃত্যু
নির্যাতনের পর আজিজুর রহমানকে প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান। এই ঘটনার প্রায় সাড়ে ১০ মাস পর তাঁর লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
লাশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের বিবরণ
শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তে লাশ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস, ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং আজিজুর রহমানের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ আজিজুর রহমানের জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে লাশ হস্তান্তর করে।
স্থানীয় নেতা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম জানান, আজিজুর রহমান আটকের সময় ধস্তাধস্তি করলে বিএসএফ তাঁকে নির্যাতন করেছিল। তিনি বলেন, "পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, সেখানেই অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন।" তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলামও ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে বলেন, লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
লাশ হস্তান্তরের পর আজিজুর রহমানের ভাতিজা সোহেল রানা অ্যাম্বুলেন্সে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, এই মর্মান্তিক ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



