কক্সবাজারে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ: রেল কর্মচারী আহত, মাথায় ১০ সেলাই
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ঢাকামুখী একটি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একজন রেল কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ট্রেনটি থামিয়ে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে এক দুর্বৃত্ত পাথর ছুড়ে মারে। পাথরটি সরাসরি ট্রেনের বেডিং পোর্টার ছাবের আহমদের (৫২) মাথায় আঘাত করে, যার ফলে তার মাথা ফেটে যায় এবং তীব্র রক্তক্ষরণ হয়।
ছাবের আহমদ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি রেলওয়ের বেডিং পোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ট্রেনের এসি ও অন্যান্য কোচে যাত্রীদের জন্য বেডিং সামগ্রী সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।
চিকিৎসা ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ট্রেনটি থামিয়ে আহত কর্মচারীকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার মাথায় ১০টি সেলাই করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সক্রিয় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ মোস্তফা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “ঈদগাঁও ও চকরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। আহত ছাবের আহমদের মাথায় ১০টি সেলাই করা হয়েছে এবং তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”
নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা রেলপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ট্রেনটি ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ রেলস্টেশন পার হয়ে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই পাথর নিক্ষেপ করা হয়, যা অপরাধীদের সাহসিকতা নির্দেশ করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন এবং দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, ট্রেনটি সোমবার রাত পৌনে ৮টায় কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে এবং এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে যাত্রা ব্যাহত হয়। আহত কর্মচারীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ট্রেন থামানো হয়, যা যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এই ধরনের ঘটনা রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, বিশেষ করে রাতের বেলায় যাত্রার সময়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
