মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, যার ফলে পুলিশের ৫ সদস্যসহ মোট প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মুক্তাগাছা পৌরসভার আটানি বাজার ছোট মসজিদ এলাকায় পাড়াটঙ্গি এলাকার এক অটোরিকশা চালক ও তারাটি ইউনিয়নের এক ইটবহনকারী ট্রলি চালকের মধ্যে যানজট নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ট্রলি চালক ও তারাটি এলাকার এক বাসিন্দা অটোরিকশা চালককে মারধর করেন।
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় অটোরিকশা চালক দলবল নিয়ে আটানি বাজার মোড়ে একটি দোকান ভাঙচুর করেন। এই ঘটনা দুই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারাটি এলাকার বাসিন্দারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আটানি বাজার এলাকায় হামলা চালায় এবং পাড়াটঙ্গি এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানপাট লুটপাট করে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে দুপক্ষের উপস্থিতির তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তারা জেলা পুলিশের সহায়তা চান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তাগাছা থানা ও জেলা পুলিশ, র্যাব-১৪ এবং ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে পুলিশ একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্যসহ দুপক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যদের ময়মনসিংহ পুলিশ হাসপাতালে এবং বাকীদের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনায় দুই এলাকাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিতে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বেশকিছু দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, "দুই এলাকাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা পুলিশ, র্যাব ও আর্মড পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।"
জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, "পুলিশ ও র্যাবসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পূর্ববর্তী ঘটনা
মানকোন ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, "পৌরসভার পাড়াটঙ্গি ও মানকোনের পাশের ইউনিয়ন তারাটির এলাকার লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তুচ্ছ ঘটনার হলেও দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়াই ব্যাপক রূপ ধারণ করেছে। এতে উভয়পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।"
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারাটি এলাকার লোকজন প্রায়ই উগ্র আচরণ করেন এবং প্রতিবছরই এমন দুই-একটি ঘটনা তারা ঘটিয়ে থাকেন। এই সংঘর্ষ শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত একাধিকবার দোকানপাটে হামলা ও সংঘর্ষের মাধ্যমে চলতে থাকে।
