ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ, জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ তিন যুবক
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ, গ্রেপ্তার তিন ছিনতাইকারী

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ, জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ তিন যুবক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের এক দুঃসাহসিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় জনতা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের খুরুশকুল গোদারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের কৌশল ও ব্যর্থতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে আনোয়ারার বটতলী থেকে চালক মো. ইলিয়াসের (৩০) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীবেশে ওঠেন তিন যুবক। গোদারপাড় এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা চালকের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। এরপর চালকের কাছ থেকে অটোরিকশা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে চালক ইলিয়াসের চিৎকারে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাড়া দেন। তাঁরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া করেন। রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামে জনতা তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে ফেলেন।

গ্রেপ্তার ও কারাগারে প্রেরণ

জনতার হাতে আটক হওয়া তিন ছিনতাইকারী হলেন মো. সেলিম (৩০), মো. হৃদয় (২৮) ও মো. সাজ্জাদ (২৫)। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, জনতা তাঁদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করলে পুলিশ সন্দেহজনক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় নেতা ও চালকের অবস্থান

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার সক্রিয়তা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি জনতা তিনজনকে আটক করেছে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।’

ভুক্তভোগী চালক মো. ইলিয়াস বারশত ২ নম্বর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের পুরোনো মাদ্রাসা এলাকার মনির আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে। ছিনতাইয়ের সময় তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হননি, তবে মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

অপরাধ দমনে জনতার ভূমিকা

এ ঘটনা অপরাধ দমনে স্থানীয় জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি করেছে। পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও দ্রুত সাড়াদান এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

আনোয়ারা থানা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। তবে এই ঘটনায় জনতার দ্রুত হস্তক্ষেপ অপরাধীদের ধরা পড়ার পথ সুগম করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়িয়েছে।