আজ শনিবার ভোরে পদ্মা নদীর মোহনায় পাবনা ও স্থানীয় দুই জেলের জালে ধরা পড়ে দুটি বড় কাতলা মাছ। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ধরা পড়া মাছ দুটি প্রায় ৮৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সকালে ধরা পড়া মাছ দুটি স্থানীয় এক ব্যবসায়ী কিনে দুপুরে ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন।
জেলেদের বর্ণনা
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ ভোরে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান পাবনার আমিনপুর থানার ঢালারচর এলাকার জেলে জামাল প্রামাণিক। তিনি কুশাহাটা এলাকায় জাল ফেলেন এবং ভেসে এসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মার মোহনায় পৌঁছান। সকাল ছয়টার দিকে জাল টেনে তোলার সময় বড় একটি কাতলা মাছ ধরা পড়ে। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালসংলগ্ন রেজাউল ইসলামের আড়তে নিয়ে আসেন।
একই সময়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকার জেলে বাবু সরদারও আজ ভোরে পদ্মায় জাল ফেলেন। সকাল ছয়টার দিকে তাঁর জালেও একটি বড় কাতলা মাছ ধরা পড়ে। তিনি মাছটি বিক্রির জন্য একই আড়তে নিয়ে আসেন।
মাছের ওজন ও নিলাম
আড়তদার রেজাউল ইসলাম জানান, ওজন করে দেখা যায়, জামাল প্রামাণিকের ধরা কাতলাটির ওজন প্রায় ১৫ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং বাবু সরদারের কাতলাটির ওজন প্রায় ১৭ কেজি। পরে নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা ও তাঁর ভাই আলমগীর মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ দুটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের কাতলাটি তিনি ২ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে ৫৩ হাজার ৫০০ টাকায় কেনেন। অন্যদিকে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের কাতলাটি ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার ৯০০ টাকায় কেনা হয়।
ঢাকায় বিক্রি
চান্দু মোল্লা জানান, পরে ঢাকার গুলশান এলাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা লাভে মাছ দুটি বিক্রি করেন। বড় কাতলাটি ৫৬ হাজার টাকা এবং অন্যটি ৩০ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। দুপুর ১২টার দিকে মাছ দুটি ঢাকায় পাঠানো হয়।
এর আগে ২০ এপ্রিল একই ঘাট থেকে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি কাতলা ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১৪ কেজি ওজনের একটি রুই ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মাছগুলোও পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে।



