সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই যুবকের মাকেও জিম্মি করে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। রক্তাক্ত অবস্থায় মা-ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৭ মে) রাত ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তাকিপুর গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— একই গ্রামের জাকারিয়া ও তার মা কুলসুম বেগম। বর্তমানে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত প্রবাসীর স্ত্রী বিভিন্নভাবে জাকারিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে জোরপূর্বক তাকে তুলে এনে নিজের ঘরে আটকে রাখেন তিনি। এ সময় তার সহযোগী একই গ্রামের আবুল হোসেন, ভাড়াটিয়া মাসুম এবং আরও কয়েকজন মিলে জাকারিয়ার ওপর মারধর ও নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে কৌশলে জাকারিয়ার মা কুলসুম বেগমকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে তাকেও আটকে রাখা হয়। এরপর মা-ছেলেকে রাতভর অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে জাকারিয়ার কাছে থাকা নগদ অর্থ এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
একপর্যায়ে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে মা-ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে থানায় বা আদালতে গেলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলা ও তদন্ত
এ ঘটনায় আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন গত ২৯ মে রাতে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত প্রবাসীর স্ত্রী, তার মেয়ে এবং মাসুমসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



