সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পায়েল মিয়া (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তাহেরা বেগম (৪৫) নামের এক নারী মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বুধবার (২৭ মে) ওই বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে পায়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সাইদুর রহমানের বক্তব্য
সাইদুর রহমান দাবি করেন, জমিতে গরুর খাবার নিয়ে আওয়াল নুর গ্রুপের সঙ্গে তাদের মামলা চলছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়াল নুর গ্রুপের লোকজন তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
আওয়াল নুরের বক্তব্য
অন্যদিকে, আওয়াল নুর অভিযোগ করেন, সাইদুর গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নদীর পাড়ে মহড়া দিচ্ছিল। তিনি বলেন, 'আমরা কোনো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে যাইনি। তারা নিজেরাই মেরে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালেও একই কৌশলে তাদের ওপর হত্যার দায় চাপানো হয়েছিল।
পুলিশের ভূমিকা
শাল্লা থানার ওসি রোকিবুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, 'পায়েল মিয়া নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আরেকজন নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'
উল্লেখ্য, শাল্লা উপজেলায় জমিজমা বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।



