লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপি এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত ব্যক্তির নাম খাদেমুল ইসলাম (২৫)। তিনি হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গতকাল বুধবার রাত দুইটার দিকে খাদেমুলসহ কয়েকজন সীমান্তের ৯০৫/৬ এস পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছান। সেখানে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় গুলি লাগে।
পরে সহযোগীরা আহত অবস্থায় খাদেমুলকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ দুপুরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি: মাছ ধরতে গিয়েছিলেন
তবে খাদেমুলের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, খাদেমুল মাছ ধরতে নদীর ঘাটে গিয়েছিলেন। ওই সময় বিএসএফ গুলি চালায়।
বিজিবির বিবৃতি
এ ঘটনায় আজ দুপুরে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় খাদেমুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার তথ্য তারা জানতে পারে। স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই বিজিবি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে জানানো হবে বলে আশ্বাস দিলেও পরে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। নিহত খাদেমুলের শরীরের আঘাতের ধরন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের বক্তব্য
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নিহত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও নিহত খাদেমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



