ট্রাম্পের এআই ছবি ও পোপ আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিতর্ক
ট্রাম্পের এআই ছবি ও পোপ আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক

ট্রাম্পের এআই ছবি ও পোপ আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পোপ লিও চতুর্দশকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নিজেকে যিশুর মতো উপস্থাপন করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-তৈরি ছবি শেয়ার করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার ফলে ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও রক্ষণশীল ক্যাথলিক মিত্রদের বড় একটি অংশের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলতে পারে।

ক্যাথলিক সমর্থনে ফাটল ও বিশপদের প্রতিক্রিয়া

বিবিসি ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের এই আচরণকে অনেক ক্যাথলিক নেতা ‘অনৈতিক’ এবং ‘গির্জার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান শ্বেতাঙ্গ ও রক্ষণশীল ক্যাথলিকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশপ জোসেফ স্ট্রিকল্যান্ড, যিনি একসময় ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনিও এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

টেক্সাসের টাইলারের এই সাবেক বিশপ একসময় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবন পবিত্র করার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এখন সরাসরি পোপ এবং শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্ট্রিকল্যান্ড বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি কোনো ন্যায়সংগত যুদ্ধ। অনৈতিক আচরণকে যৌক্তিক দেখাতে যখন ধর্মকে ব্যবহার করা হয়, তখন তা এক অন্ধকার সময়ের নির্দেশ করে।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা খ্রিষ্টের হাতে, কোনো রাজনৈতিক নেতার হাতে নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধর্মীয় কাঠামো বুঝতে ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রভাব

পোপকে ‘অতিরিক্ত উদার’ এবং ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ আখ্যা দেওয়া ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যামিলি ইনস্টিটিউট অব কানেকটিকাট’-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার উলফগ্যাং দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প ক্যাথলিক ধর্মের মূল কাঠামো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার মতে, পোপ শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধান নন, বরং পৃথিবীতে খ্রিষ্টের প্রতিনিধি; তাই তাকে আক্রমণ করার অর্থ হলো পুরো ক্যাথলিক সমাজকে আঘাত করা।

উলফগ্যাংয়ের মতে, ট্রাম্প যখন ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন বা তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা রক্তপিপাসু প্রার্থনা করেন, তখন রক্ষণশীল ক্যাথলিকদের পোপের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশপ রবার্ট ব্যারনও পোপের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন, যা রিপাবলিকান বলয়ে ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্যে ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্যাথলিক ভোটারদের মনবদল ও নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক ভোটাররা ঐতিহাসিকভাবেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট এই দুই শিবিরে বিভক্ত হলেও পোপ লিও বর্তমানে উভয় পক্ষের কাছেই সমান জনপ্রিয়। ইরান ইস্যু ও যুদ্ধবিরোধী বার্তার কারণে বর্তমানে ক্যাথলিক ‘ডান ও বামপন্থী’ উপদলগুলো এক কাতারে চলে এসেছে। ভ্যাটিকানের সংস্কৃতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি রেভারেন্ড আন্তোনিও স্পাদারো জানিয়েছেন যে, পোপ কোনো ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছেন না, বরং যুদ্ধের পেছনের অমানবিক নীতিগুলোর বিরোধিতা করছেন।

ক্যাথলিক ভোটারদের এই মনবদল আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ এই গোষ্ঠীটিই ছিল তার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সূত্র: বিবিসি।