মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের ভোগান্তি
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ৫৪ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার প্রভাবে ঢাকা থেকে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫৪টি ফ্লাইট গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা এবং নিরাপত্তা-ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাত্রীদের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা

বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক যাত্রীর ভিসার মেয়াদ সীমিত থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সরকারিভাবে থাকা-খাওয়ার খরচ দেওয়ার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ যাত্রী তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

ওমান যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা থেকে আসা মো. সাগর বলেন, ‘আমার ভিসার আর মাত্র ৬ দিন মেয়াদ আছে। এর মধ্যে যেতে না পারলে আমি আর ওমানে যেতে পারব না।’ তিনি আরও জানান, সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা তিনি পাননি।

বিমান সংস্থাগুলোর পদক্ষেপ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, গতকাল বাতিল হওয়া ঢাকা থেকে মদিনাগামী ফ্লাইটটি আজ বিকাল ৪টায় এবং জেদ্দাগামী ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রা করবে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাস্কাটে তাদের ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ এবং কাতারের দোহায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

অন্যান্য অঞ্চলে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটিয়ে উঠলে ফ্লাইট চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।