কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গত চার দিন ধরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর দাদি রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রৌমারীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীকে (৬৫) দায়ী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী। তিনি দাবি করেছেন, ওই স্কুলছাত্রী নিখোঁজের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তার ভাষ্য, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রতিপক্ষ মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন ওই স্কুলছাত্রী তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল।
অভিযোগে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর দাদি দাবি করেছেন, গত ১২ জুন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ওই স্কুলছাত্রীকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন, “তোমাকে আমার ভালো লাগে।” বিষয়টি পরে ওই ছাত্রী তার নানাকে জানায়। একই দিন রাত ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে সাবেক চেয়ারম্যান বঙ্গবাসীর বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে তিনি স্কুলছাত্রীর দাদির সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলে তাকে তাড়িয়ে দেন। দাদির ধারণা, তার নাতনি কোথায় আছে তা “বঙ্গবাসী জানেন”।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, ঢাকায় তার মেয়ের শিশু সন্তানকে দেখাশোনার জন্য ওই স্কুলছাত্রীকে গত বছর ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ছাত্রীর দাদা-দাদি তাতে রাজি হননি। পরে সম্প্রতি ওই ছাত্রীর দাদি তাকে আর পড়াশোনা করাবেন না বলে জানান। এরপর ১২ জুন ওই ছাত্রী নিজেই তাকে ফোন দেয় এবং এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দাদির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। এটাই ঘটনার মূল বিষয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স হয়েছে। সামনে নির্বাচন। আমার প্রতিপক্ষ একটি মহল আমার বদনাম করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমাকে বলা হচ্ছে আমি নাকি ওই ছাত্রীকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু এর কিছুই আমি জানি না। তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।”
এদিকে স্কুলছাত্রীর দাদির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কর্তিমারী বাজারে গিয়ে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বঙ্গবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রৌমারী থানা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী।
ওসি কাওছার আলী বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন, সাবেক চেয়ারম্যান বঙ্গবাসীর সঙ্গে থানার পুলিশের সাক্ষাৎ হয়েছে।



