চট্টগ্রামে চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আজ রায় ঘোষণা
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আজ রায়

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় করা মামলায় আজ বুধবার (১৭ জুন) রায় ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ আদেশ দেন।

এ মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করতেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। বুধবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি, ট্রাইব্যুনাল আসামিকে সর্বোচ্চ দণ্ড দেবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

গত ২১ মে বিকালে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ।

গত ৯ জুন মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২১ মে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় ওই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বিকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় নেমে আসেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘বাংলাদেশে বিচার নেই। ধর্ষককে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরাই তার বিচার করবো।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে পুলিশের পোশাক পরিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়েই বাকলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। তারা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে। পরে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পরদিন শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। ওই দিন বিকালে আদালতে হাজির করা হলে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়া

পুলিশ জানিয়েছে, বাকলিয়ার আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও প্রতিবেদন সংগ্রহের পর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২২ মে বাকলিয়া থানায় মামলা করা হয়েছিল। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ ছিল। ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।