মির্জা ফখরুল: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
মির্জা ফখরুল: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা একটা নতুন পরিবেশ পেয়েছি। যে পরিবেশে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার জন্য একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করেছি।’ শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের রেলওয়ে এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন’ কর্মসূচি পুনরায় শুরু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ

যুবসমাজকে বাঁচাতে সর্বাত্মকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ পরাভূত হচ্ছে। আমাদের যুবকেরা পরাভূত হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এটাকে আমরা কিছুতেই অ্যালাউ করতে পারি না। আমাদের অবশ্যই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগের প্রশংসা

লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কীভাবে শুরু হলো, তা দেখতে ও বুঝতে লালমনিরহাটে এসেছি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদককে না বলবে, জুয়াকে না বলবে, যৌতুককে না বলবে এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও” আন্দোলন করেছেন। সেই লড়াইয়ে আপনাদের সাফল্য এসেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেছেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনোভাবেই হোক সফল করব। এই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের তথা তিস্তা অববাহিকার মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন বিষয়ের ওপর মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আসাদুল হাবিব।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীতা দাস, স্থানীয় শিক্ষক ও আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন কর্মসূচির সহযোগী সদস্য স্বপ্না জামান প্রমুখ।

শপথবাক্য পাঠ ও শোভাযাত্রা

আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলনের প্রতিপাদ্য ‘সামাজিক অপরাধ মাদক, জুয়া, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে’ ৩ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে শপথবাক্য পাঠ করান আসাদুল হাবিব। আলোচনাসভা শেষে লালমনিরহাট শহরের শত বছরের প্রাচীন রেলওয়ে এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘হামার বাড়ি’তে এসে শেষ হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে যৌতুকবিহীন সাতটি বিয়ে সম্পন্ন হয়।