বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে আটটিতে মেয়র প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২৩ জুন) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরা।
ঢাকায় জামায়াতের প্রার্থী
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত।
অন্যান্য সিটিতে প্রার্থী
প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হওয়া অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন: চট্টগ্রামে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
পাঁচ সিটিতে এখনো চূড়ান্ত নয়
রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়ে জামায়াত আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মজলিশে শুরায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকজন প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে মজলিশে শুরা। সবকিছু ঠিক থাকলে মজলিশে শুরার পরবর্তী বৈঠকে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। তা সম্ভব না হলে পরে কোনো সভায় সেটি চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠকে অন্যান্য আলোচনা
সোমবার সকাল ৯টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানায়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ছাড়া ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জামায়াতের বার্ষিক সাংগঠনিক রিপোর্ট-২০২৫ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।



