ফরিদপুরে পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে এ সংক্রান্ত একটি লেখা পোস্ট করেন।
ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একদল সদস্য ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে মাদক পাওয়ার অভিযোগে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করে। ইশতিয়াক মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী।
পরিবারের দাবি, আটকের সময় মায়ের সামনেই ইশতিয়াককে মারধর করা হয়েছিল। পরদিন রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবির হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে এ কে এম কিবরিয়া লেখেন, ‘ফরিদপুর জেলায় একজন আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পূর্বে তার নামে কোনও মামলা ছিল কি না জানি না। পুলিশ বলছে, মাদকসহ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু রাতে অসুস্থ হয়ে ছেলেটা মারা যাওয়ার পরে পুলিশ সুপারের বক্তব্য ও শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশের বক্তব্য হুবহু মিলে যায়।’
ফ্যাসিবাদী আমলের পুলিশি বয়ান মানুষ ঘৃণার চোখে দেখতো মন্তব্য করে কিবরিয়া বলেন, ‘আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকারের পুলিশের বয়ান অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে।’
স্ট্যাটাসের শেষে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি করে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’
পুলিশের বক্তব্য
ইশতিয়াকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গত রবিবার ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তার শরীরে কোনও জখমের চিহ্ন ছিল না। পুলিশের হেফাজতে তাকে কোনও ধরনের আঘাত বা শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।’
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা–খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন জন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সঠিক তদন্তের দাবি
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে শুধু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যাহার বা চাকরিচুত্যিই বড় কথা নয়, মূল কথা হলো, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে আগামী দিনে এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।’



