ভারতে তেলাপোকা আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন-বিক্ষোভ
তেলাপোকা আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন-বিক্ষোভ

ভারতে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের সদস্যরা নিজেদের 'তেলাপোকা' বলে পরিচয় দিয়ে প্রায় ১০ দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। তীব্র তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও বিক্ষোভকারীরা গনগনে রোদের নিচে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ও দাবি

মে মাসের শুরুতে নিট-ইউজি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই তরুণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। গত ৬ জুন প্রথমবারের মতো যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে সিজেপি। বর্তমানে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আবারও যন্তরমন্তরে ফিরে এসেছে এবং পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবেন না বলে জানিয়েছে।

সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকে বিবিসিকে বলেন, 'সরকার যদি অনড় থাকে, তাহলে আমরা আরও বেশি অনড় হব।' তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের 'তেলাপোকা' ও 'পরজীবী' বলার পর মে মাসের মাঝামাঝি তিনি অনলাইনে সিজেপি গঠন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোনম ওয়াংচুকের অনশন

গত রোববার থেকে হিমালয় অঞ্চলের পরিচিত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকায় অনশন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওয়াংচুক বলেন, 'দিনের কেবল শুরু, তাই কোনো সমস্যা নেই। তবে আমি স্বাস্থ্য নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। হয় মৃত্যু, না হয় অনির্দিষ্টকাল ধরে অনশন চলবে—দেখা যাক কোনটা আগে আসে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের 'তেলাপোকা' ও 'পরজীবী' বলার পর ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, তিনি সাধারণ তরুণদের নয়, বরং 'ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী' ব্যক্তিদের কথা বোঝাতে ওই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যা তরুণদের ক্ষোভ দমাতে পারেনি।

অভিজিৎ দীপকে বলেন, 'আমি এক্সে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এক লাইনের একটি পোস্ট দিই। সেখানে লিখি—যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?' এই পোস্ট কয়েক লাখবার দেখা হয় এবং বিপুল সাড়া মেলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রম্পটের সাহায্যে অভিজিৎ একটি লোগো ও একটি মাসকট তৈরি করেন—স্যুট পরা একটি তেলাপোকা। এভাবেই জন্ম হয় 'ককরোচ জনতা পার্টি'র।

আন্দোলনের বিস্তৃতি

ককরোচ জনতা পার্টি এখন পর্যন্ত ভারতের ছয়টির বেশি শহরে বিক্ষোভ করেছে। ইনস্টাগ্রামে তাদের ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে এই বিপুল অনলাইন সমর্থন বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কতটা সমর্থনে রূপ নেবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

বিক্ষোভস্থলে প্রতি কয়েক মিনিট পরপর 'প্রধান গো ব্যাক' স্লোগান শোনা যাচ্ছে। একটি হলুদ ত্রিপলের নিচে রয়েছে একটি স্মরণস্তম্ভের দেয়াল, যেখানে সেই শিক্ষার্থীদের নাম ও স্মৃতি রাখা হয়েছে, যাদের পরিবারের দাবি, প্রথমবার নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। সেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ১৪ শিক্ষার্থীর নাম ও ছবি রয়েছে। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সৌরভ দাস বলেন, 'আন্দোলন দিন দিন বড় হচ্ছে এবং এর গতি শক্তিশালী হচ্ছে। ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। মানুষ আমাদের খাবার ও পানি পাঠাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে আমি পরিচিত এবং অচেনা অনেকের কাছ থেকেই বার্তা পাই—তারা কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে, তা জানতে চায়।'

তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু এখানে যাঁরা মাঠে আছেন এবং অনলাইনে আমাদের সমর্থন করছেন, সবাই জানেন, এটি একটি যুদ্ধ। আর যুদ্ধ অল্প সময়ে জেতা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দায়বদ্ধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই।'