বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে তাকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে। বুধবার (৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা
রাশেদ খান বলেন, বিভিন্ন টকশোতে বিরোধী পক্ষের বক্তব্যে বারবার বলা হয়েছে যে, মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে সম্প্রতি মীর শাহে আলম নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট, কখনো একই সময়ে স্কুল-কলেজে পড়েননি এবং রাজনৈতিক সূত্রেই তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
মিথ্যাচারের অভিযোগ
রাশেদ খানের ভাষ্য, মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে তার সমালোচনার আড়ালে মূলত প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলমের কাজের সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে সমালোচনা ও মিথ্যাচার এক বিষয় নয়।
তার দাবি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় গোপালগঞ্জ সপ্তম এবং বগুড়া ১৬তম অবস্থানে থাকলেও প্রচার করা হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বগুড়ায় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণাকে তিনি মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেন।
ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, মীর শাহে আলমের কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই তার সমালোচনা করা উচিত। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘিরে সম্মিলিত মিথ্যাচারের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, যার উদ্দেশ্য তাকে টার্গেট করে সরকারকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মীর শাহে আলম বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় সভা করেছেন এবং অতীতেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসব উদ্যোগের জন্য প্রশংসা না করে তাকে নিয়মিত সমালোচনার মুখে ফেলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উভয় পক্ষের নেতিবাচক প্রচারণা
রাশেদ খানের অভিযোগ, বর্তমান বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগ—উভয় পক্ষই মীর শাহে আলমকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। রাশেদ খান বলেন, 'মীর শাহে আলমের পেছনে আওয়ামীলীগ ও তার দোসররাও সোচ্চার। এর কারণ হলো, তিনি মাসখানেক আগে বলেছেন, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না! এসব কারণে বর্তমান বিরোধীদল ও পতিত স্বৈরাচারের দল সব একযোগে উঠেপড়ে লেগেছে!'



