বিএনপি সরকারের ‘কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে’ দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণি শ্রমিক ও কৃষকদের বিশেষ কোনো জায়গা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল হলেও শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের খবর নেই। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত হয়নি। ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তাবে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে না ধরতে পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো হিসাবই কাজে আসবে না।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ
আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে সাইফুল হক এ কথাগুলো বলেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশের তিনি সভাপতিত্ব করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তির সমালোচনা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেন সাইফুল হক। এই চুক্তিকে বাংলাদেশের ওপর একধরনের ‘আদেশনামা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ অপরাপর কোনো দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতাসহ স্বাধীনভাবে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না। সংসদের চলতি অধিবেশনে আলোচনা করে এই ‘অন্যায় চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের চার মাসের কার্যক্রম
ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের চার মাসের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতা সাইফুল হক বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার যেটুকু এগিয়ে আছে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার সে অগ্রগতি দেখাতে পারছে না। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না।
ভারতের প্রতি বক্তব্য
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বন্ধুত্বের বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘তাঁর এই বার্তা আন্তরিক হলে অবিলম্বে ভারতকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ভারত এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি।’ সমতা, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তি বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এগিয়ে আসতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের অন্যান্য কার্যক্রম
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। এ সময় দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আবু হাসান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশের পর দেশের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সেগুনবাগিচায় দলের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।



