বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় জাসদের কর্মীরা ডাকসুর দুই নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবি জুবায়ের।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জাসদ কর্মীরা থানায় গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত এবং ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। জাসদ আগেই এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল।
একই সময়ে, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদও নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি করতে থানায় আসেন। তার সাথে ছিলেন মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আবি জুবায়ের এবং ফাতিমা তাসনিম জুমা।
সংঘর্ষ ও হামলা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার ভেতরে উভয় পক্ষের মুখোমুখি হলে উত্তেজনা বাড়ে। ডাকসু প্রতিনিধি এবং জাসদ কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ২০ থেকে ৩০ জন জাসদ কর্মী থানার ভেতরে মুসাদ্দিক এবং জুবায়েরকে পৃথকভাবে আক্রমণ করে পিটিয়ে আহত করে।
জাসদ নেতারা অবশ্য দাবি করেন, মুসাদ্দিক প্রথমে জাসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের এক যুগ্ম সম্পাদককে আঘাত করতে গেলে হামলা শুরু হয়।
পরবর্তী পরিস্থিতি
জাসদের সিনিয়র নেতারা পরে হস্তক্ষেপ করে দুই ডাকসু নেতাকে থানার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, থানার ভেতরে একদল কর্মী প্রায় ২০ মিনিট ধরে স্লোগান দেয় এবং ডাকসু নেতাদের তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়। সিনিয়র নেতারা পরে তাদের থানা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দিলেও তারা গেটে কিছুক্ষণ জড়ো হয়ে ছিল।
সন্ধ্যায় রমনা জোনের উপকমিশনার মাসুদ আলম আবি জুবায়ের এবং ফাতিমা তাসনিম জুমাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে রাত ৯টার দিকে শাহবাগ থানা জামে মসজিদে পৌঁছে দেন।



