প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য: হামের টিকাদান ব্যর্থতাকে 'জীবনবিনাশী ব্যর্থতা' বললেন
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি হামের টিকাদান ব্যর্থতাকে পূর্ববর্তী দুই সরকারের ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ও ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
টিকা ব্যর্থতা ও বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, হামের টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, ‘এই ব্যর্থতা শুধু একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এটি ছিল জীবনবিনাশী একটি ঘটনা যা পূর্ববর্তী দুই সরকারের আমলে ঘটেছে।’ তবে তিনি দ্রুতই আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে:
- জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ: দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা হবে, যা বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।
- ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে ১ লাখ নতুন হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
- ই-হেলথ কার্ড ও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু: ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবর্তনের অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড এবং একটি ব্যাপক জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা স্কিম চালু করা হবে।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও কার্যকর করতে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করে আমরা ভবিষ্যতে এমন স্বাস্থ্য সংকট এড়াতে পারব।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যার মান উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকার ও সংস্কার উদ্যোগের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



