বগুড়ার আনোয়ার হোসেন কান্টুর ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল: পাঁচ টাকায় ১৫০ কিলোমিটার
বগুড়ায় ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল: পাঁচ টাকায় ১৫০ কিমি

বগুড়ায় ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেলের সাফল্য: পাঁচ টাকায় ১৫০ কিলোমিটার

জ্বালানি তেলের সংকটের এই সময়ে যখন মোটরসাইকেল চালকরা পেট্রল বা অকটেনের জন্য পাম্প থেকে পাম্পে ছুটছেন, তখন বগুড়ার সারিয়াকান্দির আনোয়ার হোসেন কান্টু এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তার পুরাতন মোটরসাইকেলকে ব্যাটারি চালিত করে ফেলেছেন, যা মাত্র পাঁচ থেকে ছয় টাকার বিদ্যুৎ খরচে ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছে। আগে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে তার অন্তত ৫০০ টাকার পেট্রল লাগতো, ফলে তিনি এখন উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাশ্রয় করছেন এবং তেলের জন্য হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

কান্টুর উদ্ভাবনী যাত্রা

আনোয়ার হোসেন কান্টু বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবনের শুরুতে সাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে কাঁঠালতলা মোড়ে সাইকেল ও অটো রিকশার যন্ত্রাংশের দোকান দেন। ২০১৫ সালে তিনি একটি সুজুকি ব্রান্ডের সেকেন্ডহ্যান্ড ১০০ সিসি মোটরসাইকেল কেনেন, যা বারবার নষ্ট হওয়ায় তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। জ্বালানি তেলের উচ্চ খরচ এবং ঘন ঘন মেরামতের ঝামেলায় বিরক্ত হয়ে তিনি এক সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেন।

মোটরসাইকেলটি শেষবারের মতো নষ্ট হলে, তিনি মেরামতের পরিবর্তে ইঞ্জিন সরিয়ে ফেলে ব্যাটারি চালিত করার পরিকল্পনা করেন। চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি এবং একটি অটো রিকশার মোটর ব্যবহার করে তিনি এই রূপান্তর সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এখন তার মোটরসাইকেলে পেট্রল বা লুব অয়েলের প্রয়োজন হয় না, এবং এক চার্জেই এটি ১৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সংকটে একটি বিকল্প সমাধান

বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে কান্টুর এই উদ্ভাবন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি এখন পেট্রলের জন্য পাম্পে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হয় না, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলেছে। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক মোটরসাইকেল মালিকরাও তাদের যানবাহনে ব্যাটারি ও মোটর লাগানোর কথা ভাবছেন, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে একটি সম্ভাবনাময় দিক উন্মোচন করেছে।

কান্টু বলেন, "প্রথমদিকে যখন আমি ব্যাটারি লাগিয়ে মোটরসাইকেল চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি ও ঠাট্টা করত। কিন্তু আমি তাদের কথায় কান না দিয়ে আমার পথে চলেছি, এবং এখন তেল সংকটের সময় সবাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে।" তার এই দৃঢ়তা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা তাকে আর্থিকভাবে লাভবান করার পাশাপাশি এলাকায় একটি রোল মডেলে পরিণত করেছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের বাবু মিয়া বলেন, "বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কান্টু ভাইয়ের ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা পেট্রল কিনতে পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করি, কিন্তু তার এমন কোনো ঝামেলা নেই। ১৫০ কিলোমিটারে ৫০০ টাকার পেট্রলের বদলে মাত্র পাঁচ-ছয় টাকার বিদ্যুৎ খরচ—এটা সত্যিই অভাবনীয়।"

কান্টুর বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এখন প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছেন তার এই ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল দেখার জন্য। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।