অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: '১৮ মাস পর আমার যাওয়ার পালা'
ড. ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: '১৮ মাস পর আমার যাওয়ার পালা'

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: '১৮ মাস পর আমার যাওয়ার পালা'

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, '১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি।' সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশকে সচল করার কঠিন কাজ

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, 'আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ।' তিনি বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে বলেন, 'কি মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি। সে কি আনন্দের দিন। বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিলো।'

তিনি আরও বলেন, 'দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছিলো। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু, দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।'

সরকার গঠনের পেছনের গল্প

ড. ইউনূস বলেন, 'অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করলো দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালাবার জন্য তারা আমাকে খবর দিলো। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করালো।'

তিনি বলেন, 'যারা দেশকে লুটেপুটে খেতো তারাই দেশের এ যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে।'

সরকারের ভেতরে বিশ্বাসের সংকট

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে, তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবো, কাকে করবো না, এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়ালো।'

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বিদায়ী ভাষণে তিনি তার ১৮ মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশকে সচল করার প্রক্রিয়ার কঠিনতা এবং সরকার গঠনের পেছনের গল্প স্মরণ করেন।