কৃষ্ণনগরে মোদির জনসভা: বাংলায় বিজেপি আসছে, তৃণমূল যাচ্ছে
কৃষ্ণনগরে মোদির জনসভা: বাংলায় বিজেপি আসছে, তৃণমূল যাচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার কৃষ্ণনগরে আজ জনসভায় ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণের দিন আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে হাজির হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসেছিলেন নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। সেখানে ভোট গ্রহণ ২৯ এপ্রিল। প্রচারের সুবিধা থাকায় চলে এলেন ঐতিহাসিক এই স্থানে।

কৃষ্ণনগরের বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে মোদি বলেন, এই জনজোয়ার আজ বাংলাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলায় আসছে বিজেপি, চলে যাচ্ছে তৃণমূল। আর এই বাংলায় ভয় আউট হচ্ছে, ইন হচ্ছে ভরসা।

মোদি এ কথাও বলেন, বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে এত কম হিংসার ঘটনা ঘটেনি কোনো নির্বাচনে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া। ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে। তাই কৃষ্ণনগরের বিশাল জনসভা থেকে স্লোগান উঠেছে ‘পাল্টানো দরকার, তাই চাই বিজেপি সরকার’।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত রোববার রাজ্যের ঝাড়গ্রামে প্রচার সভা সেরে মেদিনীপুরের জনসভায় আসার পথে রাস্তার পাশের একটি ছোট্ট দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি। তিনি আজ সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘ঝালমুড়ি খেয়েছিলাম আমি কিন্তু ঝাল লেগেছে টিএমসির (তৃণমূলের)। ঝালমুড়ি ওদের অনেককে ঝটকা দিয়েছে।’

মোদি আজ এ কথাও বলেন, জিতলে ঝালমুড়ি খাওয়ানো হবে। তাই এখন দেখছি, এই বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় শুরু হয়ে গেছে। ৪ মের পর বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে আজ প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ চলছে। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। আর ভোটের ফল দেওয়া হবে ৪ মে।

মোদি বললেন, ৪ মের পর এই বাংলায় ১৫ বছরের তৃণমূলের দুঃশাসনের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। রেহাই পাবে না কোনো অত্যাচারী, সিন্ডিকেট রাজ ও চাঁদাবাজদের কেউ। বিদায় নিতে হবে এই বাংলা থেকে তৃণমূলের গুন্ডাদের। এই বাংলা থেকে আরও বিদায় নেবে টিএমসির তৈরি মহামঙ্গলরাজ। আসবে বিজেপির সুশাসন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোদি আজ ১০ গ্যারান্টির কথা তুলে ধরেন। সুশাসন, সুরক্ষা, নারী কল্যাণ, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বিনা পয়সায় রেশন, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, গরিবদের জন্য পাকা বাড়ি ইত্যাদি থাকছে এই ১০ গ্যারান্টির তালিকায়। মোদি মতুয়া সম্প্রদায়ের কল্যাণ, সিএএ সার্টিফিকেট, তাদের সুরক্ষা, ভোটাধিকার ইত্যাদির ব্যাপারেও জানিয়ে দেন, তাদের সমস্যার অবসান হবে।

মোদি আরও বলেন, অত্যাচারীর হিসাব হবে, এই বাংলার লুট করা অর্থসম্পদ ফিরিয়ে আনা হবে। গত ১৫ বছর ধরে তো তৃণমূল সিন্ডিকেট ও মাফিয়ারাজ কায়েম করে বাংলাকে শুষে নিয়েছে। নারী নিরাপত্তার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।

মোদি কৃষ্ণনগরের জনসভায় যোগ দেওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে আরেকটি জনসভায় যোগ দেন। সেখানেও তিনি বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্ত হতে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান। বিকেলে হাওড়ায় তাঁর রোড শোতে অংশগ্রহণ করার কথা।