কুমিল্লা-১১ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন
দুই আসনের নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন

দুই আসনের নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কুমিল্লা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলী ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করেছেন। এই আবেদনগুলোর মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুমিল্লা-১১ আসনের প্রেক্ষাপট

কুমিল্লা-১১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন, দাবি করছেন যে নির্বাচনি অনিয়মের কারণে ভোটের ফলাফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শুনানি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের অবস্থা

অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলীও একইভাবে ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তার মতে, এই আসনেও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটেছে, যা ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে স্পষ্ট করা উচিত। উভয় আবেদনই হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার (৯ মার্চ) শুনানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাইকোর্টের ভূমিকা ও শুনানি প্রক্রিয়া

বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনগুলোর ওপর শুনানি গ্রহণ করা হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপতি জাকির হোসেনের বেঞ্চ আবেদনগুলোর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আবেদনগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের সূচনা হতে পারে। যদি হাইকোর্ট ভোট পুনর্গণনার আদেশ দেয়, তাহলে এটি সংশ্লিষ্ট আসনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইনি পথে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা নির্বাচনি ফলাফলকে বৈধ বলে দাবি করে আসছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, এবং সবাই হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।