ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের ঋণখেলাপি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা
খুরশিদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন: বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সরকারি ব্যাখ্যা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশিদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন; বরং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, খুরশিদ আলমের স্ত্রী যৌথ মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। পরে সেই ঋণ খেলাপি হয়। তবে এ কারণে খুরশিদ আলমকে ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি বলা ঠিক নয়।

আরিফ হোসেন খান বলেন, “খুরশিদ আলমের স্ত্রীর মালিকানাধীন কোম্পানির ঋণ খেলাপি হয়েছে। কিন্তু খুরশিদ আলম নিজে ঋণগ্রহীতা নন এবং ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন। এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখতে হবে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরনো ঘটনার ব্যাখ্যা

খুরশিদ আলমের ক্যারিয়ারের একটি পুরনো ঘটনাও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ ছিল, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার থাকাকালে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এই অভিযোগ তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি একটি অফিস আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী বিধিমালা-২০০৩-এর ৪৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তার দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে তখন ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি যথাযথ ছিল না। সে কারণেই তাকে পরে নির্বাহী পরিচালক এবং পরবর্তীতে ডেপুটি গভর্নর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে অবস্থান

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্ক ও আন্দোলন সম্পর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরিফ হোসেন খান বলেন, চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সিদ্ধান্তকে তারা সঠিক বলে মনে করে। কোনো ধরনের আন্দোলন, চাপ বা দাবির মুখে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই।

তার ভাষ্যে, “আজকে এক পক্ষের আন্দোলনের কারণে যদি একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরেক পক্ষ বড় আন্দোলন করে আরেকটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না।”