বাগেরহাট-১ আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ, হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনী উত্তেজনা
বাগেরহাট-১ আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ হাইকোর্টের

বাগেরহাট-১ আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ, হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচনী উত্তেজনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ সংসদীয় আসনের প্রাপ্ত ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ আদেশ জারি করেন। ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানির পর আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের শুনানি ও আবেদনের পটভূমি

আদালতে কপিল কৃষ্ণের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গাজী মোস্তাক। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪৭টি।

ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই আসনের কিছু কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরে যান বিএনপি প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ। প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত আজ ভোট পুনর্গণনার আদেশ দেন।

বাগেরহাটের অন্যান্য আসনের ফলাফল

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াতের প্রার্থীরা। এর মধ্যে বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আলিম জয়ী হন। আর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন।

এই ভোট পুনর্গণনার আদেশ বাগেরহাট-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফলে নতুন মোড় আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আদালতের এ সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।