গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির জয়, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির জয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির জয়, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের এখতিয়ার নিশ্চিত করেছে। দলীয় প্রধান হিসাবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।

উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ ও ফলাফল

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯ আসনের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংঘাত-সহিংসতার পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে দেশব্যাপী ঈদ উৎসবের মেজাজে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গড়ে ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো আসনের পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা না করলেও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হয়েছে ২০৪টি আসনে। জয়ের পথে আছে আরও কয়েকটি আসন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ৪৯টি, বরিশালে ১৭টি, ময়মনসিংহে ১৮টি, সিলেটে ১৭টি, রংপুরে ১৪টি, রাজশাহীতে ২৮টি এবং খুলনায় ১১টি আসনে বিএনপি এগিয়ে। জামায়াত জোট জয়লাভ করেছে ৩৮টি আসনে।

বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ এ মির্জা ফখরুল ইসলাম আগমগীর, কক্সবাজার-১ এ সালাহউদ্দিন আহমদ, সিলেট-১ এ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ কয়সর আহমেদ প্রমুখ। জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মেহেরপুর-১ এ মাওলানা মো. তাজউদ্দিন খান, সাতক্ষীরা-৪ এ জিএম নজরুল ইসলাম, এবং চুয়াডাঙ্গার আসনগুলোতে মাসুদ পারভেজ রাসেল ও মো. রুহুল আমিন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অভিযোগ

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। ইসির তথ্য অনুযায়ী ২৯টি সংঘর্ষে ১৩৫ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত জোট ও ইসলামী আন্দোলন কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট স্থগিতের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম সংসদ ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলো। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে এই ভোট ছিল বহুল প্রত্যাশিত। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে ইতিহাসের মাইলফলক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ২০০১ সালের পর এবার আবারও বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে।

পোস্টাল ভোট ও অন্যান্য তথ্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন, যা নিবন্ধনের হার ৮০.১১ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক ও ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছে।