এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের ভোট গণনায় কারচুপির তীব্র অভিযোগ
এনসিপির আসিফ মাহমুদের ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ

এনসিপির মুখপাত্রের ভোট গণনায় কারচুপির তীব্র অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও ফলাফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রের তীব্র অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও গণনায় ষড়যন্ত্র

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, “আমরা অবজার্ভ করছিলাম যে ভোট গণনা কীভাবে হচ্ছে। ভোটগ্রহণে কয়েকটি জায়গায় অনিয়ম হলেও আমরা সার্বিকভাবে সেটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু, ভোটগ্রহণের পরে যখন ভোট গণনা শুরু হয় তখন একটি দল হারের ভয়ে ফলাফল কারচুপি কিংবা প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।” তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে এই কার্যক্রম তারা কখনোই মেনে নেবেন না।

মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী সরাসরি একটা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভোট গণনা দেখছেন। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, সেই কেন্দ্রে মির্জা আব্বাস বিপুল ভোটে পিছিয়ে থাকায় তিনি সেখানে সাতবার ভোট কাউন্ট করিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন যে এই পুনরাবৃত্ত গণনার মাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করা কিংবা এগিয়ে থাকার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ওপর চাপের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, “আমরা দেখছি, যেখানে তারা অনেক পিছিয়ে আছে সেসব কেন্দ্রগুলোতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ফলাফল মেনে নেবে না বলে ঘোষণা দিচ্ছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদেরকে চাপ দিচ্ছেন।” তিনি দাবি করেন যে ইসির মৌখিক আদেশে মার্কার বক্সের বাইরে পড়া ভোটগুলো, যা সাধারণত ডিফল্ট বা ফল্ট ভোট হিসেবে বাদ পড়ার কথা, সেগুলো বিএনপির পক্ষে গণনা করা হচ্ছে।

মিডিয়া ও ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা

এনসিপির মুখপাত্র মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “মিডিয়া এক ধরনের ভয় নির্মাণের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি ফলাফলে ১১ দলের জোট এবং বিএনপি প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে আছে, সেখানে মিডিয়াতে দেখানো হচ্ছে বিএনপি ৩০টা, জামায়াত পাঁচটা ও এনসিপি একটা।” তিনি উল্লেখ করেন যে বেসরকারিভাবে এনসিপি ইতোমধ্যে পাঁচটি আসনে জয় লাভ করেছে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “পুরো ইকোসিস্টেমের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে ফলাফলকে প্রভাবিত করার, ফলাফলকে রিগিং করার চেষ্টা হচ্ছে। তারা যেহেতু ভোট কেন্দ্র দখল করতে পারেনি, ভোট রিগিং করতে পারেনি, এখন তারা ফলাফল প্রভাবিত করার মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার এক ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে।”

সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

সাত থেকে আটটি আসনে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকর্মীদেরকে ইতোমধ্যেই সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয় আমরা যেকোনও ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেবো।” তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, “আপনারা কোনও কেন্দ্রের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নিবেন না। আপনারা যদি অবস্থান নেন তাহলে অবশ্যই আমাদের ১১ দলের জোটের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে আমাদেরকেও সেখানে অবস্থান নেবো।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে এনসিপি ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।