ফরিদপুরে ভোটকক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি পোলিং এজেন্টের জরিমানা ও কারাদণ্ড
ফরিদপুরে ভোটকক্ষে টাকা বিতরণে বিএনপি এজেন্টের শাস্তি

ফরিদপুরে ভোটকক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি পোলিং এজেন্টের শাস্তি

ফরিদপুর-৩ আসনের একটি ভোটকক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া

দণ্ডপ্রাপ্ত তানজির ইসলাম দেওরা এলাকার হাফিজুর ইসলামের ছেলে। তিনি বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩–এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন এ আদেশ দেন।

বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ ওঠে।

আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তি

নির্বাচনী আইন-২০২৫–এর ১৩ (চ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় নির্বাচনী আইন, ১৯৭২–এর ৯১(বি)(২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, “জামায়াতের এক পোলিং এজেন্ট প্রথমে এ অভিযোগ করেন। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।” এই ঘটনায় ভোটকক্ষে নির্বাচনী নীতিমালা লঙ্ঘনের তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই শাস্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটকক্ষে অনিয়ম রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

ফরিদপুর-৩ আসনে চলমান নির্বাচনী পরিবেশে এই ঘটনা ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিএনপি প্রার্থীর দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারা এই অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।